হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এখনই ধূমপান ছাড়ুন!

smoking relate heart attack
অনেকেই মনে করেন, ধূমপান করলে ঝুঁকি থাকে কেবল ক্যানসারের মতো মারণ রোগের। এটা কিন্তু একেবারেই ভুল ধারণা। ধূমপানে বিরাট ঝুঁকি থাকে হৃদরোগের। ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদযন্ত্রটি। তবে ধূমপান কমিয়ে দিলেই হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব— এই ধারণাও কিন্তু ভুল। হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান পুরোপুরি ছাড়তে হবে।
ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, দিনে একটা মাত্র সিগারেট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কিন্তু আরও বেশি, প্রায় ৫৭ শতাংশের মতো। ধূমপানের ফলে ৪৮ শতাংশ মৃত্যুই হয় হৃদরোগেই। যাঁরা ধূমপান করেন, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের থেকে ২-৪ গুণ বেশি হয়। শুধু তা-ই নয়, যাঁরা পরোক্ষ ভাবে ধূমপান করেন অর্থাৎ কেউ ধূমপান করলে তার আশপাশে থাকেন, তাঁদেরও কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে।
যখন আপনি ধূমপান করেন, তখন আপনার ধমনিগুলি দৃঢ় হয়ে যেতে পারে। এর জেরে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে রক্তচাপও আচমকা বেড়ে যায়।

ধূমপানের প্রভাব কী ভাবে পড়ে ?

  • যখন আপনি ধূমপান করেন, তখন আপনার ধমনিগুলি দৃঢ় হয়ে যেতে পারে। এর জেরে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে রক্তচাপও আচমকা বেড়ে যায়।
  • ধূমপানের ফলে শিরা-ধমনিগুলি সংকীর্ণ হয়ে যায়, ফলে রক্ত প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
  • রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • ভাল কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।
  • রক্ত জমাট বেঁধে ডেলা (ব্লাড ক্লট) হয়ে যায়। তাতে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়। রক্ত হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কে পৌঁছতে পারে না।
  • রক্তবাহী শিরাগুলির মধ্যে প্লাক (চর্বি বা ফ্যাট, কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য উপাদান) তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করে, এমনকী ওই প্লাক ছিঁড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
  • সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধূমপানের ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। হৃদযন্ত্র যে হেতু পাম্পের মতো কাজ করে সারা দেহে রক্ত সরবাহের কাজ করে, সেই কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয় ধূমপানে। এতে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এ ক্ষেত্রে কী করণীয় ?

  • ধূমপান একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। এমনকী পরোক্ষ ভাবে ধূমপানও চলবে না কিন্তু।
  • স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • শরীরচর্চা কিন্তু মাস্ট। অনেক ক্ষণ বসে কাজ করা চলবে না। হাঁটাচলা করতে হবে।
  • ওজন ঠিকঠাক রাখতে হবে।
  • অ্যালকোহল সেবনেও রাশ টানতে হবে।
  • হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী যে সব খাবার, সেই সব খাবার খেতে হবে।
  • ডায়াবেটিস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • পারিবারিক রোগের ইতিহাসও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেটা জেনে নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ধূমপান কী ভাবে ছাড়বেন ?

যত তাড়াতাড়ি আপনি ধূমপানের মতো অভ্যেস ত্যাগ করবেন, তত বেশি আপনার হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনাও কমবে। তাই এখনই ছাড়ুন ধূমপানের অভ্যেস। তবে সেটা একেবারেই হয়তো হবে না। সময় লাগবে। কী ভাবে ছাড়বেন ধূমপান, সেই ব্যাপারে রইল কিছু টিপস।

  • কেন ধূমপান ছাড়ছেন, সেটা লিখে ফেলুন। আর ধূমপান ছাড়ার আগে ও পরে সেই তালিকাটায় রোজ এক বার করে চোখ বুলিয়ে নিন।
  • কেন ধূমপান করছেন, কখন ধূমপান করছেন আর ধূমপানের সময় কী করছেন, এটারও রেকর্ড রাখুন। তা হলেই বুঝতে পারবেন নিজের ধূমপানের কারণগুলো।
  • কিছু পরিস্থিতিতে আপনাকে ধূমপান ছাড়তেই হবে। যেমন— ঘুমোতে যাওয়ার আগে অথবা কাজের বিরতিতে ধূমপানের অভ্যেস থাকলে তা ছাড়তে হবে। তা হলে পুরোপুরি ভাবে ধূমপান ছাড়তে অসুবিধা থাকবে না।
  • ধূমপানের পরিবর্তে আপনি কী করতে পারেন, সেটা ঠিক করে রাখবেন। যখন ধূমপান করতে ইচ্ছে করবে, তখন কী করতে পারেন— সেটা ঠিক করে নিন।
  • ডাক্তারের পরামর্শও নিতে পারেন। ধূমপানের পরিবর্তে নিকোটিন গাম অথবা অন্য কিছু খেতে পারেন কি না, সেটা জেনে নেবেন ডাক্তারবাবুর কাছে।
  • সিগারেট-বিড়ি, লাইটার, দেশলাই নিয়ে ঘুরবেন না। পারলে এগুলো আপনার নাগালের বাইরে রাখুন। যাতে মনে না পড়ে।
  • যদি আপনার প্রিয়জন আপনার সামনে ধূমপান করেন, তা হলে তাকে সেটা করতে বারণ করুন।
  • যখনই ধূমপান করতে প্রচণ্ড ইচ্ছে করবে, তখন জোরে একটা শ্বাস নেবেন। তার পর ধীরে ধীরে তা ছাড়বেন। যত ক্ষণ না ধূমপানের ইচ্ছেটা চলে যাচ্ছে, তত ক্ষণ এটা করতে থাকুন।
  • নিজের হাতগুলোকে ব্যস্ত রাখুন। তার জন্য ডুডল করুন, ডিজাইন বানান, ল্যাপটপ ঘাঁটুন।
  • ধূমপানের সঙ্গে যুক্ত কোনও অভ্যেসও ত্যাগ করতে হবে। কাজের বিরতিতে সিগারেট না খেয়ে হেঁটে আসুন অথবা বই পড়ুন।
  • এমন জায়গায় ঘুরতে যান, যেখানে ধূমপানের অনুমতি নেই। যেমন— লাইব্রেরি, সিনেমা হল, কোনও বুক স্টোর, জাদুঘর।

Find a Doctor

Search Medica Doctors List

Find