ওবেসিটির জেরে বাড়ছে হৃদরোগের আশঙ্কা, এখনই সতর্ক হোন

Obesity related heart attack
ওজন ক্রমশ বাড়ছে। অথচ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। হয়তো আপনার মনে হচ্ছে, ওজন বাড়ুক না! কী আর হবে? ফিট থাকলেই তো হল! ব্যাপারটা কিন্তু এতটাও সরল নয়। ওজন বেড়ে যাওয়াটা কিন্তু এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই ওজন বেড়ে যাওয়া থেকেই আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা রকম রোগ। আর হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। গবেষণা বলছে, যাঁদের কার্ডিওভাসকুলার রোগ হওয়ার মতো কোনও কারণ নেই অর্থাৎ যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা নেই, তাঁরা যদি ওবেসিটির শিকার হন, তা হলে কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ ওবেসিটির সমস্যা এলেই রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। ফলে বুঝতেই পারছেন, ওবেসিটি কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকির অন্যতম প্রত্যক্ষ কারণ। তাই ওজন বেড়ে গেলে এখনই সে দিকে নজর দিতে হবে, অবহেলা করলে কিন্ত আপনারই বিপদ!

আসলে এখন ঘরে বসে এক ক্লিকেই সব আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। সে বাজার হোক, বা খাবার— সব কিছুই। এখন সব কিছুই হাতের মুঠোয়। কোনও কিছুর জন্যই সে ভাবে কসরত করতে হয় না। শুধু অফিস আর বাড়ির চৌহদ্দিতেই আটকে জীবন। এর জন্যই বাড়ছে ওবেসিটির মতো গুরুতর সমস্যা।

ওবেসিটি আসলে কী?
শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমলে, সেই অবস্থাকে ওবেসিটি বলা হয়। আর বাংলায় একে অতিস্থূলতাও বলা হয়ে থাকে। এর জেরে শরীরে নানা ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে ভারতের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ওবেসিটির শিকার। মধ্যবয়স্কদের মধ্যে এর প্রভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, শিশুদেরও ওবেসিটিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ওবেসিটি নির্ভর করে বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই)-এর উপরে।
বিএমআই হল— শরীরের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার।

ওবেসিটির কারণ:

  • শারীরিক পরিশ্রম ও কসরতের অভাব
  • নিয়মিত শরীরচর্চা না করা
  • অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার, জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড খাওয়া
  • অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা মিষ্টি খাবার ও পানীয় খাওয়া
  • মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম
  • কোনও ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ওবেসিটি কী ভাবে হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলে :

  • কোলেস্টেরলের উপর ওবেসিটির প্রভাব পড়ে। ওবেসিটি রক্তে খারাপ কোলস্টেরল ও ট্রাই
    গ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, ওবেসিটির প্রভাবে রক্তে এইচডিএল
    কোলেস্টেরল বা ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয়। আর রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের
    মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের সম্ভাবনাও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
  • ওবেসিটি রক্তচাপের উপরেও প্রভাব ফেলে। যাঁরা ওবেসিটিতে আক্রান্ত, তাঁদের দেহে
    অতিরিক্ত অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি হয়। ওই অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে
    হৃদযন্ত্রকে আরও বেশি করে রক্ত পাম্প করতে হয়। যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। আর
    আমরা সবাই মোটামুটি জানি যে, উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
  • ওবেসিটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিসের
    রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের থেকে ২-৪ গুণ বেশি।
  • ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণের উপায়:

    • এক ভাবে এক জায়গায় বসে কাজ করা চলবে না। পায়চারি করুন মাঝেমধ্যেই। নড়াচড়া করুন।
    • নিয়মিত অন্তত আধঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন, শরীরচর্চা অথবা যোগব্যায়াম করুন।
    • কম তেল-মশলাযুক্ত খাবার খান, চর্বি বা ফ্যাটজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
    • ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। এমনকী পিৎজা, বার্গার, আইসক্রিমও।
    • অ্যালকোহল, ঠান্ডা মিষ্টি পানীয় এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস খাবেন না।
    • মানসিক চাপ নেবেন না।
    • পর্যাপ্ত ঘুমোবেন অর্থাৎ অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

    ওবেসিটির চিকিৎসা:

    ওবেসিটির চিকিৎসার তিনটে ধাপ রয়েছে। কারণ সবাই যে মারাত্মক ওবেসিটির শিকার, তা কিন্তু নয়। সব ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে শুধু ডায়েট কন্ট্রোল ও শরীরচর্চাতেই ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তা বলে না খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা একদমই ঠিক নয়। হাই প্রোটিন, কম ক্যালোরি, কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতে হবে। এতে সে ভাবে কাজ না হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে ওষুধ দেওয়া হবে। আর তার পরেও যদি সমাধান না হয়, তবেই অস্ত্রোপচার বা সার্জারি করা হয়। আর এটি হল চিকিৎসার তৃতীয় ধাপ।

    Find a Doctor

    Search Medica Doctors List

    Find