হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে নিয়ন্ত্রণে রাখুন কোলেস্টেরল

High cholesterol related heart attack
কোলেস্টেরল শব্দটার সঙ্গে সকলেই নিশ্চয়ই কম-বেশি পরিচিত। আর এই কোলেস্টেরলই ভাবিয়ে তুলছে আমাদের। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে কিন্তু বিপদ! এর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার হৃদযন্ত্রটি। কিন্তু কেন বাড়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা ? আসলে ব্যস্ততা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, আধুনিক জীবনযাত্রা— এই তিনে মিলে ডেকে আনছে বিপদ। এমনিতে রোজই শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হয়। প্রতি গ্রাম কোলেস্টেরল তৈরিতে একটা গোটা দিন সময় নেয় যকৃত। প্রতি দিন খাদ্য থেকে সামান্য কোলেস্টেরল আমাদের শরীর পায়। ফলে নিয়মিত  কোলেস্টেরলের যতটা প্রয়োজন, ততটা স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়। তাই অনিয়ম হলেই কিন্তু
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়বে আর তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণত তেল-মশলা জাতীয় খাবারের আধিক্য, কম হাঁটাচলা, শরীরচর্চা না করা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অ্যালকোহল, মানসিক চাপ, ট্রান্স ফ্যাটের বাড়াবাড়ি প্রভৃতি কারণে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে। আর তখনই শুরু হয় হৃদরোগের চোখরাঙানি!

কোলেস্টেরল আসলে কী ?

কোলেস্টেরল আসলে আপনার রক্তে উপস্থিত এক ধরনের চর্বি জাতীয় পদার্থ। আপনার শরীরের ক্যালোরিকে লিপিডে রূপান্তরিত করে এবং পরে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করতে সেগুলি সঞ্চয় করে রাখে। কোলস্টেরল কোষের পর্দা তৈরি করে ও তাকে বাইরের চোট-আঘাত থেকে বাঁচায়। আরও নানা জৈবিক কাজকর্মের জন্যও কোলেস্টেরল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কোলেস্টেরলের প্রকারভেদ:

সাধারণত শরীরে দুই রকম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। কম ঘনত্ব যুক্ত লাইপোপ্রোটিন বা লো- ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (LDL) এবং বেশি-ঘনত্ব যুক্ত লাইপোপ্রোটিন বা হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (HDL)। এলডিএল ধমনিতে কোলেস্টেরল বহন করে নিয়ে যায়। একে ক্ষতিকারক  (খারাপ কোলেস্টেরল) বলা হয়, কারণ এটি রক্তবাহী নালিগুলিতে জমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আর এইচডিএল উপকারী কোলেস্টেরল (ভাল কোলেস্টেরল) হিসাবে পরিচিত, কারণ এটি রক্তবাহী নালি থেকে অতিরিক্ত এলডিএল যকৃতে স্থানান্তরিত করে। যার ফলে অতিরিক্ত এলডিএল আপনার শরীর
থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। তা হলে বুঝতেই পারছেন, এলডিএল কম মাত্রায় এবং এইচডিএল বেশি মাত্রায় থাকলে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল।

হৃদযন্ত্রের উপর কোলেস্টেরলের প্রভাব:

রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি মাত্রায় উপস্থিত থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। জেনে নিন, সেটা কী ভাবে হয়?

  • রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরল থাকলে তা চর্বি জাতীয় অবশেষ বা প্লাক তৈরি করতে পারে, যা ধমনির দেওয়ালে জমে সেটাকে পুরু করে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে ধমনি-পথ সরু হয়ে যায় এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর গতিতে হতে থাকে। ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। ধমনি-পথ যত বেশি সংকীর্ণ হয়, তত বেশি আপনার রক্তচাপ বাড়ে। সেই সঙ্গে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তের ডেলা (ব্লাড ক্লট) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। এই গুরুতর সমস্যা থেকেই হৃদরোগ হতে পারে।
  • হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন করে যে ধমনিগুলি, তাতে চর্বি জাতীয় পদার্থ বা প্লাক জমলে রক্তের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছনো অক্সিজেনের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এর ফলে বুকে ব্যথা হতে পারে, যাকে অ্যানজাইনা বলা হয়। এটি করোনারি ধমনির রোগের একটি লক্ষণ আর এর থেকেই বুঝতে হবে যে, হৃদরোগের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
  • ওই চর্বি জাতীয় পদার্থ বা প্লাকের কোনও অংশ কোনও ভাবে ভেঙে গেলে তার জেরে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তের ডেলা তৈরি হতে পারে। যা রক্ত প্রবাহে বাধা দিতে থাকে, এমনকী ধমনিকে পুরোপুরি ভাবে রুদ্ধ করে দিতে পারে। আর হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী  কোনও ধমনিতে এমনটা ঘটলে, হৃদযন্ত্রের নানা রকম রোগ ও সংক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

কোলেস্টেরল বাগে আনার উপায়:

  • প্রতি দিন অন্তত ৩০-৩৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। হাঁটুর সমস্যা থাকলে বুঝে কিছু ব্যায়াম করুন। শরীরকে যত বেশি নড়াচড়া করানো যাবে, শারীরিক কসরত যত বাড়বে, ততই কোলেস্টেরল কমবে।
  • ভিটামিন সি ভাল কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, তাই ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • শুধুমাত্র শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়াতেই গ্রিন টি কাজে আসে, তা নয়। চিনি ছাড়া গ্রিন টি এইচডিএল তৈরির প্রক্রিয়াটিকেও বাড়িতে দিতে সাহায্য করে। এতে খারাপ কোলেস্টেরল দূরে থাকে। ফলে দিনে দু’কাপ গ্রিন টি খেলে ভাল।
  • যে সব খাবারে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, সেই সব খাবার বেশি পরিমাণে খান।
  • দারচিনি ও রসুন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিন সকালে এক কোয়া রসুন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

Find a Doctor

Search Medica Doctors List

Find