বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে হৃদরোগের চোখরাঙানি

Age Related Heart Attack

বয়স বাড়লে নানা রোগ শরীরে আরও জাঁকিয়ে বসে। তার মধ্যে অন্যতম হৃদরোগ। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, বয়স কিন্তু হৃদযন্ত্রের উপর প্রত্যক্ষ ভাবে প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে, বয়স বাড়লে কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়বে। যে হেতু বয়সটাকে ধরে রাখা তো আর যাবে না, তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সকলকেই সতর্ক হতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো রোগ থাকলে তো আরও বেশি সাবধান হওয়া দরকার। আর হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে হবে জীবনযাত্রার ধরন। তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে চল্লিশ আর মহিলাদের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ পেরোলেই সাবধান হতে হবে। কারণ ৪৫ বছর বয়স থেকে পুরুষদের এবং ৫৫ বছর বয়স থেকে মহিলাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর বয়সের প্রভাব:

  • যাঁদের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, তাঁদের কমবয়সিদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাক, করোনারি হার্ট ডিজিজের প্রবণতা বেশি। এমনকী হৃদযন্ত্রের বিকল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
  • বয়স বাড়লে হৃদযন্ত্র ও রক্তবাহী নালিগুলিতে বদল আসে। যেমন ধরুন— বয়স কম থাকাকালীন শারীরিক কার্যকলাপ অথবা স্ট্রেসের সময় হৃদযন্ত্রের স্পন্দন যে হারে হয়, বয়স বাড়লে কিন্তু সেই হারটা কমে যায়।
  • বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে যে পরিবর্তন আসে, তা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। আর হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হল— বছরের পর বছর ধরে ধমনির দেওয়ালে ফ্যাটি উপাদান জমতে থাকে।
  • বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যে প্রধান বদলটা আসে, সেটা হল— আর্টারি বা ধমনিগুলি আরও তাড়াতাড়ি দৃঢ় হয়ে যায়। ধমনিগুলি দৃঢ় হয়ে যাওয়ার এই অবস্থাকে arteriosclerosis বলা হয়। যার জেরে উচ্চ রক্তচাপ, হাইপারটেনশনের হার বেড়ে যায়। আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো হওয়াই স্বাভাবিক।
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে ধমনির দেওয়ালে চর্বিজাতীয় পদার্থ বা প্লাক তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। যার জেরে ধমনি দৃঢ় ও সংকীর্ণ হয়ে যায়। ফলে সারা দেহ ও অন্যান্য অঙ্গে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না। করোনারি ধমনি অক্সিজেন আর ব্লাড নিউট্রিয়েন্টস সরবরাহ করে হৃদযন্ত্রের পেশিতে। আর করোনারি ধমনিতে প্লাক জমলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদযন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফল স্বরূপ হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে।
  • হৃদযন্ত্রের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমেও বয়সজনিত প্রভাব পড়ে। যার জেরে অ্যারিদমিয়া পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ হৃৎস্পন্দন অতিদ্রুত, ধীর গতিতে এবং অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। যার ফলে প্রয়োজন হতে পারে পেসমেকারের। হৃদযন্ত্রের কপাট বা ভাল্ভ পুরু ও দৃঢ় হয়ে যেতে পারে। আর এই ভাল্ভ যে হেতু অলিন্দ থেকে নিলয়ে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এগুলো পুরু হয়ে গেলে রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে।

বয়স বাড়লে কী কী করণীয়:

  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজকর্ম ছেড়ে সব সময় বিশ্রাম নিলে চলবে না। নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি, শরীরচর্চা করতে হবে। যাতে শরীরে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাড প্রেশার বাসা না বাঁধতে পারে। কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও কিন্তু শারীরিক কসরত চালিয়ে যেতে হবে।
  • খাওয়া-দাওয়াতেও রাশ টানুন। যা ইচ্ছে খেলে চলবে না। জাঙ্ক ফুড একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
  • খানার সঙ্গে পিনা-তেও রাশ টানতে হবে। অ্যালকোহলটা একেবারেই ত্যাগ করলে ভাল।
  • ধূমপানও একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে।
  • কোনও কিছুতে অত্যধিক চাপ নেওয়া চলবে না।
  • রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতে হবে। ঘুমোতে দেরি করলে চলবে না, রাত জাগবেন না। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করবেন।

Find a Doctor

Search Medica Doctors List

Find